| কোড: 332589 | তারিখ: 2012/07/28 - 20:51 | সূত্র: আবনা | print |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : যা কিছু আগামীতে পড়বেন তা হলে বিগত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী’র উপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
-বান্দার বিন সুলতান সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা চর
বান্দার বিন সুলতান মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পুরোনো এক বন্ধু এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন গোয়েন্দা –এ কথা উল্লেখ করে ইহুদিবাদী এক দৈনিক উল্লেখ করেছে যে, বান্দার বিন সুলতান রিয়াদ শহরে সিআইএ’র একজন চর।
ইহুদিবাদী দৈনিক হাআর্টসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, বান্দার বিন সুলতানকে সৌদি আরবের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দানের বিষয়ের উপর আলোকপাত করে লিখেছে : নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের নকশা তৈরীর দায়িত্ব সৌদি আরবকে প্রদান করা হয়েছে। বান্দার বিন সুলতানকে সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দান ওয়াশিংটনের জন্য একটি সুসংবাদ স্বরূপ। কেননা তিনি রিয়াদে নিযুক্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (সি আই এ)-এর একজন চর।
দৈনিকটি আরো লিখেছে বান্দার বিন সুলতান সি আই এ’র একজন শুভাকাঙ্খী, তিনি ইতিমধ্যে বাশার আসাদে’র পর সিরিয়ার উপর কর্তৃত্ব অর্জনের পথ মমৃন করার কাজ শুরু করেছেন।
হাআর্টস আরো লিখেছে : সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থা বান্দার বিন সুলতানের নেতৃত্বে, দামেস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব শেষ করে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব ব্যাপক অর্থ ব্যয় করলেও এর ফসল যুক্তরাষ্ট্রের ঘরেই উঠবে।
ইহুদিবাদী বিশ্লেষক তাযিফী বেরইল এ সম্পর্কে বলেছেন : মনে হচ্ছে বান্দার বিন সুলতানের ন্যায় যোগ্য, দক্ষ ও সফল ব্যক্তি নেই। তিনি যখন থেকে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী’র পাইলট হয়েছিলেন এবং মার্কিন ঘাঁটিতে মার্কিন প্রশিক্ষণ বিমানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিতেন তখন হতে যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ করেন তিনি।
-সিরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হত্যার বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ করায় সৌদি উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বরখাস্ত
সৌদি আরবের কিছু কিছু সরকার বিরোধী সূত্র জানিয়েছে যে, গোয়েন্দা বিভাগের উর্ধ্বতন এ কর্মকর্তার বরখাস্তের অন্যতম কারণ হচ্ছে, তিনি সিরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের হত্যার বিষয়ে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
সৌদি সরকার বিরোধী এ সূত্র লন্ডনে আরব টাইমসকে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান যুবরাজ মাকরান বিন আব্দুল আযিযকে বরখাস্ত করার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তিনি সিরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ‘আসিফ শওকাত’ হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন।
আরব টাইমস জানিয়েছে যে, ঐ সূত্র আরো জানিয়েছে, মাকরান বিন আব্দুল আযিযের মতে, সৌদি আরব কাতারের শেইখদের হাতের খেলনা স্বরূপ। আর এ নীতির কারণেই সৌদি আরবকে যুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড ও সিরিয়ার মত বড় দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহনের মত ঘটনার সাথে জড়িয়ে ফেলেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের পরিবারের জামাতা (আসিফ শওকাত) হত্যার ঘটনা সৌদি আরবের শাসক পরিবারের গলার ফাঁস হয়ে আবির্ভূত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
-নিখোঁজ নেতার সন্ধানে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইসমাইলীরা
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইসমাইলী নেতা ‘শেইখ হুসাইন মুকাররামী’র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং সম্প্রতি তার নতুন একটি ছবি প্রকাশ, তার ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন এক দুঃস্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে সৌদি ও ইয়েমেনি কর্মকর্তারা বলছেন : ‘মুকাররামী কয়েক বছর পূর্বে মারা গেছেন’। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি ওয়েব সাইটে তার নতুন ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর তার ভক্তরা নতুনভাবে আশায় বুক বেধেছে।
সৌদি আরবের নাজরানসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ইসমাইলী মাযহাবের অনুসারীরা মনে করে, তাদের নেতার নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের গোয়েন্দা বিভাগ জড়িত এবং তারা বিশ্বাস করে যে, কয়েক বছর পূর্বে পূর্বপরিকল্পিত এক অভিযানে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়।
-সৌদি সৈন্যদের প্রশিক্ষণে বিরোধিতা করলো জার্মানী’র বামপন্থী দলের সদস্য
জার্মান সরকার ঘোষণা অনুযায়ী, ফেডারেল পুলিশ এ পর্যন্ত সৌদি আরবের ৩ হাজার ৬ শত জন সীমান্তরক্ষী সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদিকে জার্মানী’র বামপন্থী রাজনৈতিক দল এ প্রশিক্ষণ বন্ধ করার প্রতি আহবান জানিয়েছে।
২০০৮ সালের শেষ হতে সৌদি আরবের সীমান্তরক্ষী বাহিনী’র সৈন্যদেরকে জার্মান ফেডারেল পুলিশ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত এ খাতে কর পরিশোধকারীদের ১০ লাখ ইউরো অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং আগামী ৫ বছর নাগাদ এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।
এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী এ নাগাদ শুধুমাত্র সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী উত্তর অঞ্চলসমূহে প্রদান করা হলেও আগামীতে অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহে এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। জার্মানী’র বামপন্থী দল ফেডারেল পুলিশের এ কর্মসূচী বন্ধের দাবী জানিয়েছে।
বামপন্থী দলের অভ্যন্তরীন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ‘আওলা ইয়ালবাকে’, সৌদি আরবের সৈন্যদেরকে প্রশিক্ষণ দানকে, আরবী গণতন্ত্রপন্থী মুভমেন্টসমূহের প্রতি অবমাননা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
-আলে সৌদের প্রতারণার উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে
সিরিয়ার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে সৌদ পরিবারের ইতিহাস বানোয়াট ও মিথ্যা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ চলচ্চিত্রে তিনি আলে সৌদে’র ধোকা ও প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য ফাঁশ করেছেন।
সিরিয়ার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ‘নাজদাত আনযুর’ কর্তৃক নির্মিত ‘মালেক আল-রাম্মাল’ (নূড়ীর রাজা) নামক ফিল্মে সৌদি রাজ পরিবারের বিভিন্ন প্রতারণার বিষয় প্রকাশ করা হয়েছে; আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বের ২০টি দেশে যার প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে। এ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সৌদি আরব তাকে হুমকিও দিয়েছে।
পরিচালক এ চলচ্চিত্রে সৌদি আরবে স্বৈরাচারী আলে সৌদ সরকারের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আযিযের জীবনী তুলে ধরেছেন, আর এ কারণে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে বলেছেন : চলচ্চিত্রটি বর্তমান বিশ্বে ঘটমান বিভিন্ন ঘটনাবলী এবং আরবি দেশসমূহকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করার লক্ষ্যে কাতার ও সৌদি আরব যে, ভূমিকা পালন করছে –এবং যার প্রভাব সরাসরি মুসলিম উম্মাহ’র উপর পড়ছে- তার উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে।
সংবাদ বিষয়ক ওয়েব সাইট ‘আল-বাওয়াবাহ আল-আরাকিয়াহ’ লিখেছে : নাজদাত আনযুর এ চলচ্চিত্রে সৌদ পরিবারের অপ্রকাশিত ইতিহাস –উতকোচ এবং ডলার প্রদানের মাধ্যমে যাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে- কে জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন।
এ চলচ্চিত্রটি হচ্ছে সর্বপ্রথম চলচ্চিত্র যাতে সৌদ পরিবারের পরিপূর্ণ ইতিহাসের উপর স্পষ্টভাবে আলোকপাত করা হবে এবং আব্দুল আযিযের ব্যক্তিত্ব ও সৌদি আরব গঠনে তার গোপন ভূমিকার বিষয়টিকেও তুলে ধরা হবে।
নাজদাত আনযুর, এ চলচ্চিত্র নির্মাণকে তার শৈল্পিক জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন : আমি রাজনীতিবিদ নই, আমি একজন মানুষ। আমি প্রতারণা, অত্যাচার ও অনাচারকে ঘৃনা করি। এ চলচ্চিত্রে আমি কিছু সত্য বিষয়কে তুলে ধরেছি ইতিহাসে যার প্রমাণ রয়েছে।#