গণতন্ত্রের মোড়কে ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা ইউরোপে
কোড: 192773 তারিখ: 2010/06/20সূত্র: রেডিও তেহরানprint

গণতন্ত্রের মোড়কে ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা ইউরোপে


সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাকে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ইউরোপ জুড়ে ইসলাম বিদ্বেষী যেসব তৎপরতা চালানো হয়, সেগুলোর মধ্যে ইসলাম বিরোধী বই প্রকাশ, ইসলাম অবমাননাকর কার্টুন ছাপানো, অবমাননাকর ফিল্ম তৈরি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা- ইত্যাদি ছিলো অন্যতম। কিন্তু মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য গণভোটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টিতে যেমন অভিনবত্ব রয়েছে তেমনি এ ঘটনা ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলেছে। আজকের আসরে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অগ্রপথিক হিসেবে পরিচিত সুইজার‌ল্যান্ডে মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা চিন্তাবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। সুইজারল্যান্ড এমন একটি দেশ যাকে লিবারেল ডেমোক্রেসি বা উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারক বলা হয়। বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণগত মতবিরোধের ক্ষেত্রে দেশটির জনগণের নিরপেক্ষ ও শান্তিকামী অবস্থানের কারণে গত একশ বছরেরও বেশী সময় ধরে সুইজারল্যান্ড কোন যুদ্ধে জড়ায় নি। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত এবং বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তিও জেনেভাসহ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরকম একটি ঐতিহ্যবাহী দেশে মসজিদের মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- ইউরোপের উগ্র ডানপন্থী ও ইসলাম বিদ্বেষী দলগুলোর চোখে মসজিদের মিনার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো যে, এর নির্মাণ বন্ধ করার জন্য আইন করতে হলো? সুইজারল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা কতো আর কতটি মিনারের অস্তিত্ব রয়েছে যে তারা এগুলোর পক্ষ থেকে বিপদ অনুভব করলো?

৭৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যূষিত সুইজারল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। অর্থাৎ দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬ ভাগ মুসলমান। মুসলমানদের সংখ্যা এত বেশী হওয়া সত্ত্বেও সেই তুলনায় দেশটিতে মসজিদ ও নামাজঘরের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। মুসলমানরা অনেক জায়গায় এ্যাপার্টমেন্টের পার্কিং এর জন্য নির্ধারিত স্থানে কিংবা ঘরের মধ্যে জামাতে নামাজ আদায় করে থাকেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানও এ ধরনের জায়গাতে সম্পন্ন করতে হয়। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডে প্রায় দেড়শ মসজিদ থাকলেও এদের মধ্যে মাত্র ৪টিতে মিনার রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন এসে যায়, এই ৪টি মিনার সুইজারল্যান্ডবাসীর জন্য কী ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছিলো যে, তারা এগুলো নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে রায় দিলো?

এ প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠিগুলো মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ওপর আরো বেশী সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবকারী উগ্র ডানপন্থী পিপলস পার্টির অন্যতম নেতা উর্লিশা শালুয়ের দাবি করেছেন, মিনারের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই, এটি স্রেফ রাজনৈতিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের একটি প্রতীক মাত্র। কাজেই তার ভাষায় মুসলমানদেরকে মিনার নির্মাণ করতে দেয়া যাবে না।

প্রতিটি ধর্মের কিছু নিজস্ব মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, মূলনীতি ও বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। একই সাথে প্রতিটি ধর্মেরই কিছু নিজস্ব ধর্মীয় স্থাপনা ও ইবাদতগৃহ রয়েছে যা দিয়ে ঐ ধর্মের অনুসারীদের চেনা যায়। মসজিদের মিনার মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি অমুসলিম দেশগুলিরও অধিকাংশ বিখ্যাত ও বড় মসজিদে মিনার রয়েছে, যদিও মিনার থাকা বা না থাকার ওপর ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে কোন মসজিদের গুরত্বের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে না। তবে শত শত বছর ধরে ইউরোপের মুসলমানগণ কোনরকম আইনগত বাধাবিপত্তি ছাড়াই মসজিদ এবং মিনার নির্মাণ করে আসছিলেন। ইউরোপের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানগুলোতে দেখা গেছে, ঐ মহাদেশের মুসলমানরা অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের চেয়ে আইনের প্রতি বেশী শ্রদ্ধাশীল।

সুইজারল্যান্ডের মসজিদে মিনার নির্মাণ বন্ধের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে বোঝা যায়, ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা চরম অবস্থায় পৌঁছে গেছে। মিনার নির্মাণের বিষয়টি গণভোটে ছেড়ে দেয়া ছিলো পশ্চিমা উদারনৈতিক মতবাদের পরিপন্থি। কারণ ঐ মতবাদের অনুসারীরা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে তাদের অন্যতম মূলনীতি বলে মনে করে। তবে মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতার ব্যাপারে মুসলমানদের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর স্ববিরোধী আচরণ এই প্রথম নয়। এর আগেও এ ধরনের বহু ঘটনা পশ্চিমা দেশগুলোতে ঘটেছে। আর এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের বুলি পশ্চিমারা ততক্ষণ পর্যন্ত সমুন্বত রাখবে, যতক্ষণ তাদের স্বার্থ রক্ষিত হয়। কিন্তু সেটা যখন তাদের স্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তখন তারা সেটা লংঘন করার জন্য গণতন্ত্র ও উদার নৈতিকতাবাদের আশ্রয় নিতেও কুণ্ঠিত হয় না।
প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলো যদি গীর্জায় ঘন্টা বাজানো নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গণভোটের ওপর ছেড়ে দিতো, তবে পশ্চিমা দেশগুলো কি এ ব্যাপারে নীরব থাকতো? মোটেই না। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে অপরকে অভিুযুক্ত করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার লংঘন করা। অন্য দেশকে হুমকি ধমকি দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ঐসব দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার লংঘনের প্রশ্নে হৈ চৈ ফেলে দেয়। অথচ পশ্চিমারা ইউরোপের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকার লংঘনের ব্যাপারে নীরব রয়েছে। একের পর এক বৈষম্যমূলক আচরণের মাধ্যমে যখন ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার থেকে মুসলমানদের বঞ্চিত করা হচ্ছে- তখন পশ্চিমাদেরকে মানবাধিকার লংঘনের বুলি আওড়াতে শোনা যাচ্ছে না।

ইসলামের বিকৃত চেহারা তুলে ধরা এবং মুসলমানদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে পাশ্চাত্যে ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও দিনদিন এই ধর্মের প্রসার ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ইসলামের এই প্রসার রোধ করতে হলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় তৎপরতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হবে। হিজাব পরিধান বা মিনার নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আসল রহস্যএখানেই। সুইস সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ মুসলিম দেশগুলোকে আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমারা ইসলাম ও মুসলমানদের রুখতে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর কর্তব্য হচ্ছে নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র রুখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। শত্রুরা যখন ইসলামের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সম্ভাব্য ক্ষতির দায় মুসলমানদের কাঁধেও অনেকাংশে বর্তাবে। #

Share :  Del.icio.us  Digg  Facebook  Newsvine  Reddit  Technorati




ই-মেইল:
নাম:
মতামত:
Englishالعربية
Françaisاردو
Españolفارسی
Русский中文
DeutschTürkçe
Azeri (cyr) Azeri (ltin)
Melayu Indonesia
বাংলা ABP sites
 সর্বশেষ সংবাদ

- সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসী দলের ৩ সদস্য নিহত

- গ্রীক রমনী’র শিয়া মাযহাব গ্রহণ

- পাক্ষিক ফজরের নতুন সংখ্যা প্রকাশিত

- বিশ্বব্যাপি মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও আমেরিকা বা জাতিসংঘের কোন মাথা ব্যাথা নেই

- পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে কুদস দিবসের শোভাযাত্রায় বোমা হামলা: শতাধিক ব্যক্তি হতাহত

- বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে যথাযথ মর্যাদায় হযরত আলী (আ.) এর শাহাদত বার্ষিকী পালিত

- আয়াতুল্লাহ আহমাদী ফাকীহ ইয়াযদী’র ইন্তেকাল

- পাকিস্তানের পেশোয়ারে মার্কিন বাণিজ্যদূতের দপ্তরের কাছাকাছি স্থানে গোলাগুলি

- পাকিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় ৫ জন নিহত

- শেখ কাযেম আমরী’র কারাগার হতে মুক্তি লাভ

- উগ্র তালেবান জঙ্গীদের হামলায় ৩ শিয়ার শাহাদত

- রোজা সংক্রান্ত মাসাআলা (১)

- তাতারেস্তানের গ্রান্ড মুফতির সাথে ইরানি কালচারাল কাউন্সেলরের সাক্ষাত

- পাকিস্তানের বন্যা কবলিতদের সাহায্যার্থে ইরানের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ