| কোড: 195980 | তারিখ: 2010/07/16 | সূত্র: ABNA | print |
ইরানের যাহেদানে জোন্দোল্লাহ সন্ত্রাসী বাহিনী’র নৃশংস হামলায় ৩ শতাধিক হতাহত
|
যাহেদান হতে প্রেরিত আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: গত ১৪ই জুলাই রাতের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৮ জন শহীদ এবং অন্তত ৩ শতাধিক লোক আহত হয়েছে এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশংকাজনক।
বিস্ফোরণ শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা:
এ পর্যন্ত ২০ জনের শহীদের নাম ও পরিচয় জানা গেছে এবং অপর ৮ জন শহীদের পরিচয় অজ্ঞাত। ২০ জন শহীদ হচ্ছেন:
১. হাজী’র পুত্র মোহাম্মাদ রেজা রাগী। ২. মুহাম্মাদ হুসাইনে’র পুত্র মুহাম্মাদ আকবারী। ৩. আব্বাসের পুত্র মুস্তাফা নাজ্জার। ৪. গোলাম হোসেনের পুত্র মাহমুদ কিয়ানী। ৫. গোল মীরে’র পুত্র আরেফ শাহরাকী। ৬. সাজ্জাদ হাজিয়ান। ৭. সাইয়্যেদ জাওদ হুসাইনী ৮. মুস্তাফা আব ইয়ারী। ৯. মুহাম্মাদ সারগাজী। ১০. আলী গোলাম হুসাইন তেহরানী। ১১. কাযেম নাজ্জার। ১২. রেজা মির। ১৩. রেজা শাহরাকী। ১৪. গোলাম রেজা তাওয়াক্কুলী। ১৫. এহসান ফারাযমান্দ। ১৬. মুহাম্মাদ হুসাইনী। ১৭. হামিদ সারহাদী রাদ। ১৮. মাহমুদ গোলদাভী। ১৯. আলী রেজা কোর্দ। ২০. মোজতাবা সুরাইয়া।
নিহতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে: যাহেদান মেডিকেল কলেজের ভিসি
যাহেদান মেডিকেল কলেজ এ্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আহতদের ১০ জনের অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে বলেছেন: যাবুল ও কেরমান হতে চিকিৎসকদের একটি দল এবং বিমানে করে তেহরান হতে একটি বিশেষজ্ঞ দলসহ সর্বমোট ১৬ জন স্পেশালিষ্ট আহতদের চিকিৎসার জন্য এসেছেন। মানসুর শাকিবা সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ খবরে জানান: উক্ত ঘটনায় আহত ৩০৬ জন ব্যক্তিকে খাতেম, আলী ইবনে আবি তালিব, আবু আলী, নাবী আকরাম এবং জাহেদান হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জন শাহাদত বরণ করেছেন এবং ১৩৭ জন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর হাসপাতালা ত্যাগ করেছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অপর ১৬৯ জনের মধ্যে ৬৯ জনের অপারেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের সকলকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরীত করা হয়েছে। জনাব শাকিবা, প্রথম হামলার পরপরই যাহেদান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন: দ্বিতীয় হামলায় দু’জন কর্মী আহত হয়েছে এবং দু’টি এ্যাম্বুলেন্সও নষ্ট হয়ে গেছে।
৩ দিন সাধারণ শোক ঘোষণা
সিস্তান বালুচিস্তান প্রদেশের গভর্নর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এ প্রদেশে ৩ দিন সাধারণ শোক ঘোষণা করেছেন। আলী মুহাম্মাদ আযাদ এক বিবৃতিতে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় শহীদদের পরিবারদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন পূর্বক ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধপন্থী এবং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদীদের দোসররা, মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতা ও ক্রোধের বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছে। জনাব আযাদ বলেন: এবার তারা কারবালায় হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এর পতাকাবাহী হযরত আবুল ফাজলিল আব্বাস (আ.) এর জন্মবার্ষিকীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এ প্রদেশের কিছু সন্তানকে, শিয়া ও সুন্নি মাযহাবের মাঝে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে হত্যা করেছে।
হিলারী ক্লিংটনের সমালোচনা!!!
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, যে সকল সন্ত্রাসী ঘটনার দায়িত্ব জোন্দুল্লাহ বাহিনী স্বীকার করেছে তার সবগুলোরই নিন্দা জানাই। সম্প্রতি উগাণ্ডা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক ও আলজেরিয়ায় যে সকল সন্ত্রাসী হামলা ঘটানো হয়েছে, তা নিরাপরাধ মানুষের জীবনকে হুমকির সম্মুখীনকারী সন্ত্রাসী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলার গুরুত্বকে কয়েক গুণে বাড়িয়ে দেয়। তিনি এ নিন্দা এমতাবস্থায় জানালেন যখন জোন্দোল্লাহ সন্ত্রাসী বাহিনী’র প্রাক্তন নেতা আব্দুল মালেক রিগী, নিজের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিল।
শাহরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাণী
জাতীয় সংসদে জাহেদানের প্রতিনিধি হুসাইন আলী শাহরিয়ার এ হামলাকে শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে বলেন: নিঃসন্দেহে এ হামলা শিয়া ও সুন্নি মাযহাবের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করবে। আর যারা বলবে যে, এ ধরনের কোন প্রভাবই ফেলে না তারা মিথ্যা কথা বলছে! তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক এ ঘটনার নিন্দা জানানোর বিষয়ে বলেন: মার্কিন কর্মকর্তারা বাহ্যিকভাবে মানবাধিকারের সমর্থক হলেও তারা গোপনে মুজাহিদীনে খালক, জোন্দুশ শাইতানের মত সন্ত্রাসী দলকে সহযোগিতা করে এবং তাদেরকে এ সকল হামলার ক্ষেত্রে অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে। তারা (এ কাজের মাধ্যমে) সাধারণ জনগণের চোখ ফাঁকি দেয়ার চেষ্টায়রত। আর এ কারণেই তারা এ ধরণের শ্লোগান দিয়ে থাকে।
হামলার বিষয়ে তদন্ত চলেছ: রাদান
শান্তি ও শৃংখলা রক্ষী বাহিনী’র ডেপ্যুটি প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, শান্তি ও শৃংখলার রক্ষী বাহিনী’র সদস্যরা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করছে এবং অতি শীঘ্রই এ তদন্তের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ইরানের শান্তি ও শৃংখলা রক্ষী বাহিনী’র ডেপ্যুটি প্রধান সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তদন্তের জন্য যাহেদান সফর করছেন।
ঘটনাস্থল হতে ইরনা বার্তা সংস্থার প্রতিবেদকের রিপোর্ট
ইরনা প্রতিবেদক ঘটনার রাতে দোয়ায়ে কুমাইল ও হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্য তিনি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান। তিনি বলেন: প্রথম বিস্ফোরণটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঘটানো হয়। তিনি ১০ মিনিট পর অর্থাৎ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনায় শহীদ হওয়া ৪ জনের লাশের পাশে এস দাঁড়াতেই দ্বিতিয় বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণের পর বহু লোক আহতদের সাহার্য্যার্থে মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিল এমন সময় দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটানো হলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। চিৎকার ও ক্রন্দনের আওয়াজ পরিবেশকে আরো ভারী করে তোলে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশী ছিল যে, কোন কোন শহীদের লাশ খণ্ড বিখণ্ড হয়ে এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী ভবনসমূহ ও দু’টি গাড়ীর কাঁচ ভেঙ্গে যায়। এ সময় অতি দ্রুততার সাথে এ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদেরকে হাসাপাতালে স্থানান্তরের কাজে ব্যস্ত হয়। আহতদের হাসপাতালে প্রেরণের পর শহীদদের লাশ এবং তাদের শরীর হতে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একত্রিত করে এ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হয়। পরবর্তী বিস্ফোরণের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হলেও জনগণ তা উপেক্ষা করে আহতদের সাহায্যের জন্য ছুটে আসে। আমি পায়ে আঘাত পেয়েছিলাম, এমতাবস্থায় একজনকে দেখলাম সে তার শহীদ ভাইয়ের লাশের পাশ দাঁড়িয়ে ‘ইয়া হুসাইন, ইয়া হুসাইন’ বলে চিৎকার করছে।
হামলার দায়িত্ব রিগী’র রেখা যাওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী স্বীকার করেছে
গতকাল ভোরে ইন্টারনেটে প্রকাশিত এক লেখায়, আব্দুল মালেক রিগী’র সন্ত্রাসী দল (জোন্দোল্লাহ) এ সন্ত্রাসী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে অপর একটি বিপ্লব বিরোধী ওয়েব সাইটে আত্মঘাতী বোমা বহনকারী দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার প্রথম ঘাতক হিসেবে আব্দুল বাসেত রিগী এবং দ্বিতীয় ঘাতক হিসেবে আযিয মুহাম্মাদ রিগী’র নামক ২ ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা সন্ত্রাসী হামলার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় এ ছবি তোলা হয়েছে।

আব্দুল বাসেত রিগী

আযিয মুহাম্মাদ রিগী
এ সন্ত্রাসী হামলাটির, পাকিস্তানে পরিচালিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সাথে হুবহু মিল রয়েছে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী হামলা গুলোতে সন্ত্রাসীরা প্রথমে একটি বিস্ফোরণ ঘটায়। অতঃপর আহতদের সাহার্য্যার্থে যখন লোকজন ঘটনাস্থলে সমবেত হয় তখন মূল বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এ বিষয়টি, ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদেরকে খুঁজে বের করতে ও এ বিষয়ে তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে (মসজিদে দোয়ায়ে কুমাইল শুরু তেলাওয়াত শুরুর সময়) আত্মঘাতী বোমাধারী একব্যক্তি যাহেদান জামে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা চালালে, মসজিদের দরজার সম্মুখে অবস্থানরত নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়। এ সময় সে নিজেকে বিস্ফোরিত করে। এ বিস্ফোরণের সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীদের ৪ জন শহীদ হন। প্রথম বিস্ফোরণের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অন্যান্য লোক ঘটনাস্থলে ভীড় জমালে আত্মঘাতী বোমা বহনকারী দ্বিতীয় ব্যক্তি সমবেত মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে, সদ্য নির্মিত মসজিদের দরজা ও একটি ব্যাংকের মাঝে নিজেকে বিস্ফোরিত করে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩০ জন শহীদ হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অপরদিকে যারা মসজিদ অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন এবং বিস্ফোরণ স্থলে উপস্থিত হননি, তাদের কেউই হতাহত হয় নি।


| Share : | Del.icio.us |
Digg |
Facebook |
Newsvine |
Reddit |
Technorati |