| কোড: 271883 | তারিখ: 2011/10/15 | সূত্র: Abna | print |
আলে খলিফা সরকারের আদালত যে যুবককে তার পিতার সাথে কারাদণ্ড দিয়েছে |
মানামা’র সামরিক আদালত গত সপ্তাহে ১৪ই ফেব্রুয়ারী’র সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কিছু সংখ্যক বাহরাইনী’র বিরুদ্ধে রায় প্রদান করেছে। সাইয়্যেদ আকীল আলী, আব্দুর রউফ আল-শায়েব, আব্বাস আল-ইমরান, আব্দুল গনি খানজার, বিশিষ্ট লেখক আলী আব্দুল ইমাম প্রমূখ ব্যক্তিত্বকে ১৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আবনা মানামা’র সামরিক আদালত কর্তৃক উক্ত রায় প্রদানের পর হাক্ব মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক হাসান মুশাইমা’র পুত্র আলী মুশাইমা’র একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছে, তা পাঠকদের জন্য নিম্নে উল্লেখ করা হল :
আবনা : সার্বিকভাবে এ রায় সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
-প্রদত্ত রায় আশ্চার্য্যজনক কিছু নয়, আমরা জানতাম যে স্বৈরাচরী সরকারের আদালত এ ধরণের রায় দেবে। এ রায় সামরিক আদালত হতে প্রদান করা হয়েছে সুতরাং কোন প্রমান বা যুক্তি কেন্দ্রিক নয়, বরং এ রায় রাজনৈতিক এবং প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে সামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে।
বাহরাইনের ধর্মীয় নেতাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার লক্ষ্যে এবং বিচারকের পরিচিত চিন্তাবিদদের কর্তৃক প্রদত্ত মতামতকে দমন করার উদ্দেশ্যে এ রায় প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাসমূহ ও আন্তর্জাতিক ক্ষমা সংস্থাও এ বিষয়ের সাক্ষী দেয় যে, এ সকল ব্যক্তিত্ব শুধুমাত্র তাদের মতামত ব্যক্ত করার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বাহরাইনের বর্তমান সরকার এদেশে গণ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই অভ্যন্তরিন কোন্দল বাঁধানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত।
এ রায় আমাদের নিকট মূল্যহীন, আমরা জানি যে, বাহরাইনের গণ বিপ্লব জাতির প্রকৃত স্বাধীনতাকে -যার মাধ্যমে এদেশের নেতারা মুক্তি লাভ করবে- আমাদের জন্য উপহার স্বরূপ বয়ে আনবে।
এহেন রায় প্রদান করার পরও জনগণ এ সকল রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে বিজয়ী’র বেশে প্রকাশ্যে বের হচ্ছে, তারা জানে যে, সাধারণ আদালতের সাথে এ রায়ের কোন সামঞ্জস্যতা নেই এবং এ রায়গুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।
আবনা : এ ধরণের রায় প্রদানের বৈধতা কি আলে খলিফা সরকারের আছ?
-এ সরকার জোরপূর্বক তাদের রায় কার্যকর এবং সামরিক বাহিনী’র আচরণের বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সরকার তার সকল সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন যুক্তি-দলিল এবং আইন ও নীতিতে বিশ্বাসী নয়।
আইনের দিক থেকে এ আদালতগুলো সামরিক হওয়া সত্ত্বেও বেসামরিক লোকদের বিচারকার্য পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে, তারা হচ্ছে বিশিষ্ট চিন্তাবিদগণ, যারা বাহরাইনী জাতির দাবী ও নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন মাত্র। এ সকল ব্যক্তিত্বরা বিপ্লবের অধিপতি এবং এর পথ নির্দেশক।
জাতীয় দিক থেকে (যদি বলি তবে বলতে হয়) সকল জাতীই অত্যাচার ও সহিংসতায়পূর্ণ সামরিক সরকারের পতন চায়, আর অত্যাচারকে ধ্বংস করার জন্য ফরিয়াদ করে ও শ্লোগান দেয়।
এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যে, স্বৈরাচারী এ সরকার নারীদে সম্ভ্রমহানী ও পবিত্র নিদর্শনসমূহের বিষয়ে সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এতটাই এগিয়ে গেছে যে, গ্রাম অঞ্চলগুলোতেও তারা অত্যাচার চালাচ্ছে এবং বাহরাইনের কোন শ্রেনীর লোকজনই এ সীমা লঙ্ঘন হতে পরিত্রাণ পায় নি।
আবনা : ১৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করে যে রায় আপনার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে তা সম্পর্কে আপনি কিভাগে অবগত হয়েছিলেন, আপনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত এ রায়ের যুক্তিকে আপনি কিভাবে খণ্ডন করেন?
-৩ বছর পূর্বে সিরিয়ায় একটি দলকে শিক্ষা দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু জনগণের বিক্ষোভের পর ঐ রায়গুলো মুলতবি ঘোষণা করা হয়, আর আমিসহ আমার সাথে যারা এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল তাদের সকলকে ছেড়ে দেয়া হয়। আমার পিতাও এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছিলেন।
প্রায় ৭ বছর পূর্বেও আমার প্রতি অভিযোগ আরোপ করা হয়েছিল। এখন আমরা স্বৈরাচারী সরকারের এ ধরণের অপবাদ আরোপ ও খেলার বিষয়ে অভ্যস্ত।
যেভাবে আমাদেরকে ‘সন্ত্রাসবাদে’র অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে আমরাও স্বৈরাচারী সরকারকে একই অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারি। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে : সন্ত্রাসী কারা? যারা শ্লোগান দেয় এবং গণতন্ত্র ও অধিকারের দাবী জানায় নাকি তারা যারা মসজিদসমূহকে ধ্বংস করে দেয়, নারীদেরকে গ্রেপ্তার করে, আলেমদের উপর নির্যাতন চালায়, পবিত্র কুরআনে অগ্নিসংযোগ করে এবং দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অন্য দেশের সামরিক বাহিনী’কে আমন্ত্রণ জানায়?
যদি আমরা সন্ত্রাসী হয়ে থাকি তবে আমাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ছবি তারা প্রকাশ করুক। (সত্যই বলেছেন) মুহাম্মাদ হাবিব আল-মেক্বদাদ বলেছেন যে, আমরা আলে খলিফা সরকারের সন্ত্রাসবাদের বলি স্বরূপ।
আবনা : স্বৈরাচারী আলে খলিফা সরকার কি আপনাদেরকে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে কোন দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে? স্বৈরাচারী আলে খলিফা সরকারের কোন কর্মকর্তার উপর কি হামলা করা হয়েছে বা কাউকে কি অপহরণ করা হয়েছে?
-না, কখনই না। যেভাবে আমি শুরুতেই বলেছি যে, আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহও এ সকল রায়ের নিন্দা জানিয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদেরকে ‘আকিদার বহির্প্রকাশের দায়ে গ্রেপ্তার’ নামে নাম করণ করেছে, যারা তাদের আকিদা ও চিন্তার প্রকাশ ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
আবনা : ন্যায়নীতি বহির্ভূত এ রায় প্রদানের পর আপনি স্বৈরাচারী সরকারের উদ্দেশ্যে কি কোন নসিহত (উপদেশ) করতে চান?
-‘যে ব্যক্তি পৃথিবী চায় সে তোমাকে নসিহত করবে না, আর যে ব্যক্তি পরকাল চায় সে তোমার সাথী হবে না’। কোন উপদেশই তাদের জন্য কাজে আসবে না। তাদের অন্তরে সিল মেরে দেয়া হয়েছে। তাদের সংস্কৃতি অনেক পিছিয়ে এবং প্রাথমিক। ‘ক্ষমতা তাদের উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত’ -এ বিষয়টি তাদের মাথায় সবসময় ঘুরতে থাকে। সুতরাং তাদের প্রতি নসিহত করার কোন সুফল নেই।
আবনা : কারাগারসমূহে যে সকল ঘটনা ঘটছে সে সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শোনা গেছে যে, আপনার পিতা অন্যান্য কয়েদিদের সাথে কারাগার অভ্যন্তরে অনশন শুরু করেছেন।
-‘প্রত্যাবর্তনের শুক্রবার’ ও ‘স্বাধীনতা লাভের শনিবার’ দিবসদ্বয়ে অত্যাচারী সরকার কর্তৃক নারীদেরকে ধর্ষন ও জনগণের উপর অমানবিক অত্যাচারের কথা শোনার পর আমার পিতা ও রাজনৈতিক নেতারা নারীদেরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কারাগারে অনশন শুরু করছে। তারা এখনো অনশন পালন করছে (এ সাক্ষাতকার গ্রহনের দিন) কিন্তু তাদের মনোবল পাহাড়ের মট অটল।
আবনা : আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।