| কোড: 332304 | তারিখ: 2012/07/27 - 21:00 | সূত্র: রেডিও তেহরান | print |
ইসলামকে প্রতিহত করার জন্যই মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা : আয়াতুল্লাহ ইমামি কাশানি |
বার্তা সংস্থা আবনা : তেহরানের জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ মোহাম্মাদ ইমামি কাশানি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামী জাগরণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ চালানো হচ্ছে।
আজ তেহরানের জুমার নামাজের খোতবায় আয়াতুল্লাহ ইমামি কাশানি আরো বলেন, বিশ্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী যে গুরুত্ব আরোপ করেছেন- তা অনুসরণ করা এদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর উগ্র বৌদ্ধদের পাশবিক হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এ ব্যাপারে মানবাধিকারের প্রবক্তাদের রহস্যজনক নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন।
জুমার নামাজের পর তেহরানসহ সমগ্র ইরানে হাজার হাজার মুসল্লি রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিল করেছেন। তারা মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর গণহত্যাসহ অন্যান্য নির্যাতন বন্ধ করার আহবান জানিয়ে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতার নিন্দা জানিয়েছেন।
মিয়ানমারে গতমাসে উগ্র বৌদ্ধরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে দাঙ্গা শুরু করেছে তাতে মদদ দিচ্ছে দেশটির সরকার। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। নাইপিতাউ বলছে, রোহিঙ্গারা দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। অথচ ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের পূর্বপুরুষরা পারস্য, তুরস্ক এবং বঙ্গ অঞ্চল থেকে আরাকান এলাকায় বসতি গড়েছিলেন খ্রীস্টিয় অষ্টম শতাব্দিতে। ফলে শত শত বছর ধরে দেশটিতে বসবাসের সুবাদে বর্তমানে তারা মিয়ানমারেরই স্থায়ী নাগরিক।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা শিক্ষা ও চাকুরির মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া, রোহিঙ্গারা চরম সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। নির্যাতিত এ জনগোষ্ঠীর ওপর ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে চালানো হয়েছে নারকীয় গণহত্যা।#
(সূত্র : রেডিও তেহরান)